মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন দখলদার সরকারের ব্যর্থতা: অর্থনীতি ও কূটনীতিতে বিপর্যয়
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তথাকথিত ‘নোবেল বিজয়ী’ অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রতিটি স্তরেই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। সম্প্রতি চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই অবৈধ সরকারের দুর্বল কূটনীতি, বিপর্যস্ত অর্থনীতি এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উত্তেজনাকর সম্পর্কের এক করুণ প্রতিচ্ছবি।
১. জিডিপি প্রবৃদ্ধির পতন: ‘অর্থনীতিবিদের’ ছদ্মবেশ ফাঁস
ড. ইউনূস একজন স্বঘোষিত অর্থনীতিবিদ। অথচ তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েই এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ৩.৯ শতাংশে দাঁড়াবে। যেখানে পূর্ববর্তী বছরেও প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.২২%। অর্থাৎ, অর্থনীতি তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং শিল্পক্ষেত্রে অস্থিরতা এর মূল কারণ — যা সরাসরি সরকারের অযোগ্যতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং বাস্তবতাবর্জিত অর্থনৈতিক নীতির ফল।
অথচ এই ব্যর্থতাগুলোর দায় স্বীকার না করে সরকার আশার বাণী শুনাচ্ছে—পরবর্তী বছর নাকি ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতি। কিন্তু কোনো পরিকল্পনা নেই, নেই কাঠামোগত সংস্কার। শুধু ফাঁকা বুলি।
২. প্রতিবেশী কূটনীতিতে চরম ব্যর্থতা: ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল
ভারত হঠাৎ করেই বাংলাদেশের পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক দিক থেকে নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও এই সরকারের দেউলিয়াত্বের পরিচয় দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত সরাসরি ড. ইউনূসের বিতর্কিত চীন সফর এবং ‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে অবিবেচক মন্তব্যের ফল। ভারতের কূটনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার পরও, সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়নি। বরং ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিষয়টিকে আরও বিভ্রান্তিকর করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম এমন একটি সরকার এসেছে, যার প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড নিয়ে স্পর্শকাতর মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক চরম হুমকির মুখে ফেলেছেন।
৩. ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের প্রতিক্রিয়া: অর্থনীতিতে প্রভাব কম হলেও বার্তা স্পষ্ট
যদিও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত হতো, তবুও ভারতের সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি একটি প্রতীকী ‘অবিশ্বাস’ প্রকাশ করে। বিশেষ করে যখন ভারত সরকার পরিস্কার করে বলছে—তাদের বিমানবন্দরগুলোতে জট তৈরি হচ্ছিল এবং বাংলাদেশের কারণে তাদের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
এখানে প্রশ্ন আসে—এই সুযোগ-সুবিধাগুলো ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কার ছিল? যিনি অর্থনীতির কথা বলেন, তিনি কি জানতেন না ভারতের অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা? কূটনৈতিকভাবে ভারতকে বোঝানো যেত না?
ড. ইউনূস এসব কিছুই করেননি। তিনি শুধু বক্তৃতা দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ছবি তুলেছেন, অথচ কোনো বাস্তব সমাধান দেননি।
৪. মূল্যস্ফীতির উর্ধ্বগতি: জনগণের দুর্ভোগ
এডিবির তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াতে পারে ১০.২%, যা গত বছরের ৯.৭৩% থেকে বেড়েছে। এর মানে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এটি আবারও প্রমাণ করে যে ড. ইউনূসের অর্থনৈতিক জ্ঞান শুধুই পুরস্কারনির্ভর, বাস্তব অভিজ্ঞতাহীন।
উপসংহার
অর্থনীতি ও কূটনীতির এই বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ আজ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। একদিকে মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট—সব মিলিয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে এই সরকারের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং অর্থনৈতিক ব্যর্থতা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার 'অর্থনীতিবিদের মুখোশ' দিয়ে বাংলাদেশের ওপর যে অন্যায় পরীক্ষা চালাচ্ছেন, তা এক ভয়াবহ মূল্য নিয়ে আসছে দেশের জন্য।
Milon Syed
Editor of AkaalBodhon

Comments
Post a Comment