বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন: মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির একটি মুখোশ

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি আলোচিত ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। আন্দোলনটির প্রাথমিক দাবি ছিলো শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং বৈষম্য দূরীকরণ। কিন্তু একটি গভীর বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, এই আন্দোলনটি কেবলমাত্র ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয় বরং এর পেছনে রয়েছে একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, যা মূলত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির স্বার্থ রক্ষায় পরিচালিত হয়েছে।

আন্দোলনের পটভূমি ও অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত পরিচয়

আন্দোলনটি শুরুতে পরিচিত হয়েছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হিসেবে। কিন্তু কিছু সময় পরেই বেরিয়ে আসে যে আন্দোলনের নেতৃত্বে যারা ছিলেন, তারা মূলত ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা এবং জঙ্গিবাদী চক্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা ছিল। এদের মধ্যে মাহফুজ আলমের নাম বিশেষভাবে উঠে আসে, যাকে হিযবুত তাহরীরের সাথে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হয়।

এই ছাত্রনেতারা তাদের পরিচয় গোপন রেখে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কারণ, যদি তাদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেত, তাহলে জনসাধারণের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হতো। বাংলাদেশে এখনো জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর ঘৃণা এবং অবিশ্বাস রয়েছে। এই পরিচয় গোপন করে আন্দোলনটি সংগঠিত করে জামায়াতে ইসলামী আবারও জনসাধারণকে প্রতারিত করেছে।

বুদ্ধিজীবী ও আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি

আন্দোলনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বুদ্ধিজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বুদ্ধিজীবীরা ফরহাদ মজহারের মতো ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। তাদের উপস্থিতি আন্দোলনটিকে একটি নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বৈধতা দেয়। কিন্তু এই বুদ্ধিজীবীদের আসল উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে পুনর্লিখন করা।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। এটি একটি গভীর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে দেশের মূল রাজনৈতিক কাঠামোকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি বৈষম্য দূরীকরণ হলেও, এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় সংহতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

সংবিধান পুনর্লিখনের পরিকল্পনা

আন্দোলন পরবর্তী সময়ে আমরা দেখি, সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি প্রকট আকার ধারণ করছে। বর্তমান সংবিধান, যা মূলত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের উপর ভিত্তি করে তৈরি, তা পরিবর্তন করে নতুন একটি সংবিধান তৈরির দাবি ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে, কিন্তু পুনরায় প্রণয়ন করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে আন্দোলনের নায়করা সংবিধান পুনর্লিখনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মূলনীতি ও আদর্শকে পরিবর্তন করতে চান।

বর্তমান সংবিধান শুধুমাত্র একটি দলীয় প্রস্তাবনা নয়, এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে। এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। যারা এই সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে চান, তারা আসলে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আদর্শের প্রচারক।

উপসংহার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রথম দেখায় একটি ছাত্র আন্দোলন মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যগুলো গভীরভাবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব জামায়াতে ইসলামী এবং এর মতাদর্শগত সহযোগী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত। এদের মূল লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকে ধ্বংস করা।

তাই, যারা এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য বুঝতে ব্যর্থ হন, তারা আসলে দেশপ্রেমের আদর্শ থেকেও দূরে সরে যান। এ আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা, যা শুধুমাত্র জাতীয় স্বার্থকেই নয়, আন্তর্জাতিক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির স্বার্থও রক্ষা করছে।

লেখক:
লিটলম্যাগ অকালবোধনের সম্পাদক
অক্টোবর ৩, ২০২৪

Comments

Most Read

Unraveling the Threads of the Student Movement: A Reflection on Farhad Mazhar's Insights

Tomiris: The Warrior Queen

Bangladesh and Awami League: An Inseparable Reality

Echoes of August 21